1. admin@amarbangla.info : amarbangla.info :
শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

গত ১০ মাসে রপ্তানি বাণিজ্যে ধস

  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

রপ্তানি

বাজার ভালো নেই গত ১০ মাস ধরেই। এর সঙ্গে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ১০ মাস ধরেই রফতানি আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকে টানা নভেম্বর পর্যন্ত এই আয় কমতে থাকে। গত আগস্ট মাসে আগের বছরের আগস্টের চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ রফতানি আয় কম হয়। সেপ্টেম্বরে কমে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। অক্টোবরে কমে ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। নভেম্বরে কমে প্রায় ১১ শতাংশ। ডিসেম্বরে রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় না থাকলেও জানুয়ারিতে আবারও নেতিবাচক ধারায় ফিরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে হয় মাইনাস ১ দশমিক ৮ শতাংশ। মার্চে মোট রফতানি কমেছে ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এপ্রিলে কমেছে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর সর্বশেষ মে মাসে কমেছে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর অামার বাংলাকে বলেন, রফতানি এখন বড় দুশ্চিন্তার খাত। বিশেষ করে করোনার কারণে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। তৈরি পোশাক নির্ভর এই খাতকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন তিনি।

তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অামার বাংলাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তৈরি পোশাক খাত নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহামারি করোনা। করোনার আগেও রফতানি নিম্নমুখী ছিল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশের বাজারে তৈরি পোশাকের দাম কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে রফতানি আয় কম এসেছে।
এদিকে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য বলছে, গত মে মাসে মাত্র ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
এপ্রিলে এই রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৫২ কোটি ডলার। এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে পণ্য রফতানি প্রায় তিন গুণ বাড়লেও তা গত বছরের মে মাসের চেয়ে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম।
শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) বিশ্ববাজারে ৩ হাজার ৯৫ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭৯ কোটি ডলার কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ৬ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাৎ ১১ মাসে রফতানি কমেছে ১৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, পোশাক এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমলেও পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে। তবে দেশের মোট রফতানির ৮৪ শতাংশ অবদান রাখা পণ্য পোশাকের রফতানি কমার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রফতানিতে। তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা বলছেন, নতুন অর্ডার আসছে না। আবার অনেক ক্রেতা আগের অর্ডারও বাতিল করেছে। ফলে সামনে বড় সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র মুখপাত্র কামরুল আলম বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে একের পর এক কার্যাদেশ বাতিল ও ক্রেতা দেশগুলোর লকডাউন পরিস্থিতিতে রফতানি কমেছে।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাস শেষে চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর রফতানি খাতের প্রধান পণ্য তৈরি পোশাক রফতানি ১১ মাসে কমেছে ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য বলছে, পোশাক চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৫৭০ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ৩ হাজার ১৭৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পোশাক।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রফতানি থেকে বাংলাদেশ মোট ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ (৪০.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিল।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৮২ লাখ (৪০.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করে বাংলাদেশ। তাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল ৪ শতাংশ। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানির মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি (৪৫.৫০ বিলিয়ন) ডলার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© আমার বাংলা মিডিয়া লি.

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার